চুয়াডাঙ্গায় মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার

স্টাফ রিপোর্টার

চুয়াডাঙ্গা জেলায় সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, শিক্ষা ব্যবস্থা, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জেলা মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার সকাল ১০ টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নাহার।

এ সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা, শিক্ষা ব্যবস্থা, বাল্যবিবাহ রোধ, , নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, খাদ্যে ভেজালরোধ, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, সন্ত্রাস দমন, সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থা, পাতলা পলিথিন বর্জন ও পাটজাত পণ্যেও ব্যবহার বৃদ্ধিকরণ, রাস্তাসহ সরকারি জায়গা অবৈধ ভাবে দখল মুক্তকরণসহ বিবিধ বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে চুয়াডাঙ্গা জেলার অক্টোবর মাসের সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। অক্টোবর মাসে ডাকাতি বা দস্যুতা ১টি, খুনের ৪টি, প্রাণহানি বা অপমৃত্যুর ২৪টি, নারী ও শিশু নির্যাতনের ৭টি, চুরির ৪টি, অস্ত্র আইনে সংঘটিত অপরাধের ১টি, মানব পাচারের ১টি এবং অন্যান্য অপরাধের ৫৭টি সর্বমোট ৯৯টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

মাসিক আইন শৃঙ্খলা কমিটির সূত্রে জানা যায়, বাল্যবিবাহ ও নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে অক্টোবর মাসে ১টি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও ১৫ হাজার টাকা, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণ কর্তৃক ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে পরিচালিত ২৮টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৩৭টি মামলায় ১ লক্ষ ৬২ হজার টাকা ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কর্তৃক ৮টি অভিযানে ১২টি প্রতিষ্ঠানকে ২ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা, ৭৫টি মোবাইল কোর্টে ১৯৩টি মামলায় ৫ লক্ষ ৩৩ হজার ১০০টাকা জরিমানা এবং ৩৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড আরোপ করা হয়েছে। এছাড়াও সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবহণ ব্যবস্থায় ম্যাজিস্ট্রেটগণ কর্তৃক ১১টি অভিযানে ৫০টি মামলায় ৪৩ হাজার ১০০ ও পুলিশ বিভাগ কর্তৃক ৩৪৩টি মামলায় ১৯ লক্ষ ৪২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে ১৩টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় ৩৬ টি মামলায় ৩ হাজার ৬৫০ টাকা অর্থদন্ড ও ৩৬জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদন্ড আরোপ করা হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, মহা সড়কের পাশের ঝোপ-ঝাড় পরিষ্কার করতে হবে। এই ঝোপ-ঝাড়ের ভিতর চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারী, লুকিয়ে থাকে। তারা যখন তখন রাস্তার ভিতর অপকর্ম করে। রাস্তার দুই পাশ যদি পরিষ্কার থাকে তাহলে এই রাস্তা কেন্দ্রীক অপরাধ অনেকটা কমে যায়। ইউএনওদেরকে এই বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে।

তিনি বলেন, শীতের সময় গরু চুরি বেড়ে যায়। সুরক্ষিত গোয়াল ঘর থেকে গরু চুরি করে নিয়ে যায়। ওসিদেরকে এই বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে এবং কমিউনিটি পুলিশের মাধ্যমে মানুষদেরকে সচেতন করার চেষ্টা করার ব্যবস্থা করতে হবে। কিশোরদের মোটরসাইকেল চালানো, হেলমেট না পড়া, একটি মোটরসাইকেলে ৩ জন ওঠা এগুলো রোধ করতে হবে। কিশোর, তরুণ ও যুবক যারা বেপরোয়া ভাবে রাস্তায় নামছে এগুলো খুব দ্রুত বন্ধ করতে হবে। তা না হলে সড়ক কেন্দ্রিক বিশৃঙ্খলা রোধ করা সম্ভব নয় এবং এরাই সড়ক দূর্ঘটনার স্বীকার বেশি হয়।

তিনি আরও বলেন, মাগরিবের আজানের পরে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা যাতে বাড়ির বাইরে না থাকতে পারে সেই বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে। এই বিষয়ে আমাদের সবাইকেই শক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, পুলিশ, অভিভাবক আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

এসময় পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার বলেন, সম্প্রতি স্কুলের বাচ্চাদের নিয়ে যে ঘটনাটি ঘটল সমস্ত চাপ পুলিশের উপরে এসে পড়ে কিন্তু দ্বায়িত্ব যাদের তারা কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি। আমাদের সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। এখন প্রতিদিনই ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন করার জন্য চেক পোস্ট দেওয়া হচ্ছে এবং এর ফলাফল বেশ ভালো এবং গত মাসের ১৫ তারিখ থেকে গতকাল পর্যন্ত প্রায় ১৭ লক্ষ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা সরকারকে দেওয়া হয়েছে। সারা চুয়াডাঙ্গা জেলায় সব জায়গায় এটা চলবে। আমাদের ট্রাফিক পুলিশ, জেলা পুলিশ সবাই কম্পাইলি এই কাজগুলো করছি। যার কারণে অপরাধের হার কমে আসছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক বাচ্চারা যারা মোটরসাইকেল চালাতো তাদের অভিভাবকেরা সচেতন হচ্ছে। এবং দূর্ঘটনার হারও কমে গেছে। আমাদের এই কাজগুলোতে আপনাদের সাহায্য প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বাচ্চাদের, কিশোর গ্যাং এসকল বিষয় দেখার দ্বায়িত্ব শুধুমাত্র পুলিশের নয়। আমরা বাইরে থেকে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা করার জন্য যা যা প্রয়োজন তা করছি। সবারই এগিয়ে আসতে হবে। সবাই মিলে একসাথে কাজ করতে পারলে আমার মনে হয় চুয়াডাঙ্গা একটি নিরাপদ স্থানে পরিণত হবে।

এসময় মাদক ও নানা ধরনের চোরাচালান রোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও বেশি তৎপর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান বন্ধে বিজিবি ও পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।

সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি. এম. তারিক-উজ-জামানের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার, সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদ, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার তিথি মিত্র, আলমডাঙ্গা উপজেলার নির্বাহী অফিসার শাহীনুর আক্তার, দামুড়হুদা উপজেলার নির্বাহী অফিসার লাভলী ইয়াসমিন, জীবননগর উপজেলার নির্বাহী অফিসার সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি, সহকারি পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) শেখ মোহাম্মদ নুরুল্লাহ্, জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আনিসুর রহমান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহীন্দ্র কুমার মন্ডল, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব সভাপতি নাজমুল হক স্বপনসহ জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রধানগণ। এ সময় বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকরা অংশ নেন। সভা শেষে জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করা হয়।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।