স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গায় টেনিস খেলার মান উন্নয়ন এবং নতুন খেলোয়াড় তৈরির মাধ্যমে একটি শক্তিশালী পাইপলাইন গড়ে তোলার মহৎ উদ্যোগ মুখ থুবড়ে পড়েছে। ক্লাব কর্তৃপক্ষের ব্যাপক প্রস্তুতি এবং প্রচারণার পরও নতুন খেলোয়াড় বাছাই ও ভর্তি প্রক্রিয়ায় চরম অনীহা দেখিয়েছেন স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। ফলে জেলার টেনিস অঙ্গনের ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে তীব্র হতাশা ও সংশয়।
চুয়াডাঙ্গা টেনিস ক্লাব সূত্রে জানা গিয়েছিল, ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সী আগ্রহী খেলোয়াড়দের টেনিস খেলায় উদ্বুদ্ধ ও ভর্তি করার লক্ষ্যে আজ ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখ বিকেল সাড়ে ৪ টায় ক্লাব মাঠে এক বিশেষ সাক্ষাৎকার পর্বের আয়োজন করা হয়। ক্লাব কর্মকর্তাদের আশা ছিল, সম্ভাবনাময় তরুণদের উপস্থিতিতে মুখরিত হবে মাঠ। কিন্তু বাস্তব চিত্র ছিল সম্পূর্ণ উল্টো এবং চরম হতাশাজনক।
নির্ধারিত সময়ে পুরো মাঠে কোনো শিক্ষার্থী বা অভিভাবকের দেখা মেলেনি। কর্মকর্তাদের টেনিস খেলোয়াড় তৈরির স্বপ্নকে টিকিয়ে রাখতে পুরো চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী মাঠে হাজির হয়েছিলেন মাত্র একজন আগ্রহী খেলোয়াড়। তার নাম রাকিমুল ইসলাম রাকিম। সে চুয়াডাঙ্গা ভি.জে. (ভিক্টোরিয়া জুবিলী) সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী এবং ক্রীড়া পরিচালক রকিবুল ইসলাম রকিবের ছেলে। যেখানে শত শত তরুণের ভিড় জমানোর কথা ছিল, সেখানে কেবল রাকিমুলের একাকী উপস্থিতি চুয়াডাঙ্গায় ক্রীড়াচর্চার প্রতি তরুণ প্রজন্ম ও অভিভাবকদের উদাসীনতার এক করুণ চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।
এ প্রসঙ্গে চুয়াডাঙ্গা টেনিস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাবিল হোসেন জোয়ার্দ্দার অত্যন্ত হতাশা প্রকাশ করে জানান, নতুন খেলোয়াড়দের অভিভাবকের উপস্থিতিতে সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়া এবং তাদের সম্মতি নিশ্চিত করার শর্ত ছিল। পাশাপাশি মোবাইল মাদক ও অপসংস্কৃতিক চর্চার বেড়াজাল টোপকে টেনিস খেলার প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে ক্লাবের নিয়ম-কানুন ও আদর্শের প্রতি আনুগত্য এবং সদাচরণ চর্চার আহ্বান যেনো ফিকে হয়ে গেল । কিন্তু এমন চমৎকার ও সুশৃঙ্খল একটি সুযোগের পরও কেউ এগিয়ে আসেনি।
সাবেক ক্রীড়া অফিসার, রেফারি ও টেনিস বেত্তা আবু জাফর হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, চুয়াডাঙ্গার মতো ঐতিহ্যবাহী জেলায় টেনিসের মতো একটি আন্তর্জাতিক মানের খেলার প্রতি তরুণদের এই বিমুখতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মাত্র একজন খেলোয়াড়কে নিয়ে কীভাবে চুয়াডাঙ্গার টেনিসের পাইপলাইন সমৃদ্ধ হবে, তা এখন মস্ত বড় প্রশ্ন। যদি এই পরিস্থিতি চলতে থাকে, তবে জেলা থেকে ভবিষ্যতে ভালো টেনিস খেলোয়াড় উঠে আসার স্বপ্ন কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং কর্মকর্তাদের পাইপলাইন তৈরির স্বপ্ন পুরোপুরি কি অধরাই থেকে যাবে!



