খন্দকার শাহ আলম মন্টু
জন্ম থেকেই চোখে আলো নেই। তবুও সুরের জগতে প্রায় চার দশক ধরে নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন মোহাম্মদ রেজাউল করিম। গান শিখিয়েছেন অসংখ্য শিক্ষার্থীকে। তাঁর কাছ থেকে গান শিখে অনেকে সংগীতাঙ্গনে পরিচিতিও পেয়েছেন। অথচ সেই প্রবীণ সংগীত শিক্ষক ও শিল্পীর নিজের সংসার এখন চরম অভাব-অনটনে চলছে।
জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার জেহালা ইউনিয়নের মাঝেরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল করিম স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করেন। বড় ছেলে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজে পড়ছেন, ছোট ছেলে আগামী বছর এসএসসি পরীক্ষার্থী। নিয়মিত আয় না থাকায় সন্তানদের পড়াশোনা ও সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁকে।
রেজাউল করিম বলেন, “শুধু একমুঠো খাবারের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঘুরতে হয়। ছেলে দুটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি। একজন অন্ধ মানুষ হিসেবে অন্যের সহায়তা নিয়ে চলাটা খুব কষ্টের।” শৈশব থেকেই সংগীতের প্রতি তাঁর আগ্রহ। চুয়াডাঙ্গার কেদারগঞ্জ আদর্শ অন্ধ বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সংগীতের তালিম নেন। প্রয়াত সংগীত শিক্ষক খোকন হোসেন জোয়ার্দ্দার, আশরাফ আলী, শিশির কুমার মজুমদার ও শরিফউদ্দিন আহমেদের কাছে সংগীত শিক্ষা নেন। প্রায় ৪০ থেকে ৪২ বছরের সংগীতজীবনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে গান শেখানো ও পরিবেশন করেছেন।
রেজাউল করিমের দাবি, ক্লোজআপ ওয়ানখ্যাত শিল্পী বিউটিসহ অনেক শিল্পী তাঁর কাছে সংগীতের তালিম নিয়েছেন। তাঁর কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী বর্তমানে সংগীতাঙ্গন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠিত। একসময় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গান পরিবেশন এবং গান শেখানোর মাধ্যমে তাঁর আয় হতো। বর্তমানে সাংস্কৃতিক আয়োজন কমে যাওয়ায় সেই সুযোগও সংকুচিত হয়েছে। কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে গান শেখানোর সুযোগ পেলেও তা থেকে নিয়মিত আয় হয় না। সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা পেলেও, কয়েক মাসের ভাতা বকেয়া রয়েছে।
১৯৯৭ সালে মুজিবনগর দিবসের একটি অনুষ্ঠানে গান পরিবেশনের পর তৎকালীন এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিকীর মাধ্যমে চাকরি পেয়েছিলেন বলেও জানান তিনি। তবে ১৯৯৯ সালে এলজিইডিতে পরিবর্তনের পর সেই চাকরি হারান। পরে চাকরিতে ফেরার চেষ্টা করেও সফল হননি। জীবনের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সংগীত ছাড়েননি রেজাউল করিম। তাঁর এখন একটাই প্রত্যাশা দুই সন্তানের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এবং পরিবার নিয়ে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকা। রেজাউল করিম স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক সংগঠন, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতা কামনা করেছেন। দীর্ঘদিন সংগীতচর্চা ও শিক্ষাদানের সঙ্গে যুক্ত এই প্রবীণ শিল্পীর জন্য নিয়মিত কাজের সুযোগ ও সামাজিক সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এক মুঠো খাবারের আশায় চার দশক ধরে দ্বারে দ্বারে গান শেখান দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মুন্সিগঞ্জের রেজাউল



