চুয়াডাঙ্গা শহরতলীর দৌলতদিয়াড়ের আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী মিন্টুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গায় মাদক বিক্রির মামলায় আশাদুল হক মিন্টু (৩৯) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক সত্যব্রত শিকদার এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মিন্টু চুয়াডাঙ্গা শহরতলির দৌলতদিয়াড় চুনুরীপাড়া এলাকার মৃত রমজান আলীর ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৩১ মার্চ বেলা একটার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার হাসান চত্বরে অবস্থান করছিল ডিবি পুলিশের একটি দল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, দৌলতদিয়াড় গ্রামের ব্রিজের নিচে একজন ব্যক্তি হেরোইন ও প্যাথিডিন ইনজেকশন বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে সেখানে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিন্টু দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে তাকে ধাওয়া করে আটক করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তার দেহ তল্লাশি করে প্যান্টের ডান পকেট থেকে তিনটি পলিথিনে মোড়ানো হেরোইনের প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এসব প্যাকেটে মোট ১৩৫ গ্রাম হেরোইন ছিল। এছাড়া তার বাম পকেট থেকে ১৮টি প্যাথিডিন ইনজেকশনের অ্যাম্পুল উদ্ধার করা হয়। জব্দতালিকা অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া হেরোইনের আনুমানিক মূল্য ছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। প্যাথিডিন ইনজেকশনের মূল্য ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৮০০ টাকা। এ ঘটনায় মিন্টুর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলায় ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার নথি পর্যালোচনা শেষে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি এপিপি মানাজার আলী জোয়ার্দ্দার বলেন, দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা মামলায় আদালতের এ রায়ের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্ট। অন্যদিকে আসামিপক্ষের কৌঁসুলি ফজলে রাব্বী সাগর বলেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।