অল্প খরচে মিলবে আধুনিক সকল রোগের চিকিৎসা, চুয়াডাঙ্গায় খলিল মালিক ফাউন্ডেশন হাসপাতালে অত্যাধুনিক সিটি-স্ক্যানার মেশিনের উদ্বোধন

স্টাফ রিপোর্টার

চুয়াডাঙ্গায় খলিল মালিক ফাউন্ডেশন হাসপাতাল, ডায়ালাইসিস ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অত্যাধুনিক সিটি-স্ক্যানার মেশিনের উদ্বোধন এবং ক্যান্সার সচেতনতামূলক সেমিনার ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা ১২টায় শহরের কলেজ রোডে খলিল মালিক হাসপাতাল ভবনে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সিটি-স্ক্যানারের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।

পরে ডা. ওসামা মোহাম্মদ জালালের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কোরআন তেলোওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন খলিল মালিক ফাউন্ডেশন হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড.অল্প সাদিকুর রহমান মালিক। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফাওয়াজ মাহমুদ জোয়ার্দারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার ও কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. এস এম মোস্তানজিদ।

দ্বিতীয় অধিবেশনে ‘ক্যান্সার যথাসময়ে চিকিৎসায় নিরাময়যোগ্য’ শীর্ষক ক্যান্সার সচেতনতামূলক সেমিনার ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. একরামুল হক জোয়ার্দ্দার ও মেডিকেল এবং রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট ডা. মো. তৌছিফুর রহমান।

এসময় বক্তারা বলেন, ক্যান্সার মানেই মৃত্যু নয়। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করে যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করা হলে অনেক ধরনের ক্যান্সার নিরাময় সম্ভব। এজন্য নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ক্যান্সার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রোগের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

চিকিৎসকরা জানান, শরীরে ছোট গুটি হলে অনেকেই এটি অবহেলা করে। পরবর্তীতে এটি বৃদ্ধি পেয়ে যখন ক্যান্সারের রূপ নেয় তখন মানুষ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ছুটে আসেন। অনেকের মধ্যে একটি ভুল ধারণা থাকে যে ক্যান্সার একটি ছোঁয়াচে রোগ। আসলে এটি সঠিক নয়। ক্যান্সার কোন ছোঁয়াচে রোগ নয় ক্যান্সার রোগীরা সুস্থ মানুষের সঙ্গে বসবাস করতে পারবেন। এতে সুস্থ মানুষের কোন শারীরিক ক্ষতি সাধন হবে না। একই প্লেটে খেতে পারবে ও এক বিছানায় ঘুমাতে পারবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন অত্যাধুনিক সিটি-স্ক্যানার চালুর ফলে চুয়াডাঙ্গা ও আশপাশের এলাকার রোগীরা স্থানীয়ভাবেই উন্নতমানের রোগ নির্ণয় সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে উন্নত চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি রোগীদের সময় ও ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

হাসপাতালে দুটি অপারেশন থিয়েটার রয়েছে। একটি জেনারেল এবং অপরটি গাইনি। এছাড়াও শিশুদের ইনকিউবেটর ও আলাদা ওয়ার্ড রয়েছে। ডায়াগনস্টিক ল্যাব, ব্লাড টেস্ট, সিটি স্কান, এক্সরে, ইসিজি সহ বিভিন্ন টেস্টের সুবিধা রয়েছে। উন্নত প্রযুক্তি ও সার্বক্ষণিক জনবল দ্বারা হাসপাতালটি পরিচালিত হচ্ছে । এছাড়াও ২৪ ঘন্টা বিকল্প বিদ্যুৎ হিসাবে জেনারেটরের সংযোগ ও রোগিদের জন্য লিফটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অপরদিকে হাসপাতালটি আরো সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নির্মাণ কাজ অব্যহত রয়েছে।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের অবসরপ্রাপ্ত কনসালটেন্ট কার্ডিওলজিস্ট ডা. আবুল হোসেন, ইম্প্যাক্ট হাসপাতালের চিফ মেডিকেল কো-অর্ডিনেটর ডা. শাফিউল কবীর জিপু, ডা. শিমুল, খলিল মালিক হাসপাতালের এ্যাডমিন ও পাবলিক রিলেশন অফিসার অহিদুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার প্রমুখ।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।