চুয়াডাঙ্গায় সর্বজনীন পেনশন স্কিম বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত পেনশন ব্যবস্থার আওতায় প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা নামে ৪টি স্কিম চালু রয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গায় সর্বজনীন পেনশন স্কিমের কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পেনশন বিষয়ক স্কিম কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা ৩ টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসন, চুয়াডাঙ্গার আয়োজনে এবং জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য (অর্থ ও প্রশাসন) শেখ কামরুল হাসান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান। কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন সরকারি অফিস, ব্যাংক, বীমা কোম্পানি ও এনজিও প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় জানানো হয়, জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ৪৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এছাড়া বিকাশ, নগদ, টেলিটক ও এমআরএসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হয়েছে। শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালুর পাশাপাশি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, কল সেন্টার ও অনলাইন সেবাও চালু করা হয়েছে। বর্তমানে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতায় চারটি স্কিম চালু রয়েছে। এগুলো হলো প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা। বিদেশীদের জন্য প্রবাস,  প্রগতি স্কিম বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জন্য, সুরক্ষা স্কিম স্বকর্মে নিয়োজিত ও অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের জন্য এবং সমতা স্কিম স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে। কৃষক, শ্রমিক, রিকশাচালক, জেলে, তাঁতি, কামার, কুমার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, গৃহিণীসহ অনানুষ্ঠানিক খাতের সকল কর্মজীবী মানুষ নির্ধারিত হারে চাঁদা প্রদান করে এ স্কিমে যুক্ত হতে পারবেন।
এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. সুরাতুজ্জামান বলেন, দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতেই সরকার সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করেছে।  সর্বজনীন পেনশন স্কিমে জমাকৃত অর্থ সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করা হয়। ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সীরা নিয়মিত সঞ্চয়ের মাধ্যমে ৬০ বছর বয়স থেকে পেনশন সুবিধা পাবেন। কেউ ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মৃত্যুবরণ করলে জমাকৃত অর্থ ও মুনাফাসহ নমিনিকে প্রদান করা হবে।
এর আগে সকালে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ রোডের মুক্তমঞ্চে দুই দিনব্যাপী সর্বজনীন পেনশন মেলার উদ্বোধন করেন তিনি। পরে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান ও এনজিওর কর্মকর্তাদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা।
কর্মশালায় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি.এম তারিক উজ জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর আক্তার, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল,  সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর এস.এম আশিস মোমতাজ,  সহকারী কমিশনার আবদুল্লাহ আল নাঈম, মির্জা শহীদুল, শাকিল মোঃ ছাফিউল্লাহ, জমির উদ্দিন, সাগর দে, আব্দুল্লাহ আল শামীম, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহীন্দ্র কুমার মন্ডল, জেলা তথ্য অফিসার শিল্পী মন্ডল, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান,  চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সাধারণ সম্পাদক শাহআলম সনি, দৈনিক খাসখবর পত্রিকার প্রধান সম্পাদক রাজীব হাসান কচি, দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক বিপুল আশরাফ, পুলিশ পরিদর্শক আতিকুজ্জামান,  জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি প্রমুখ।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।