রামিসা বিচার চাই’ শিশুদের কণ্ঠে প্রতিবাদের ঝড় আলমডাঙ্গায় ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

আলমডাঙ্গা অফিস
ছোট ছোট হাতে প্ল্যাকার্ড, চোখেমুখে ক্ষোভ আর কণ্ঠে একটাই দাবি রামিসার হত্যার বিচার চাই, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করো, ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় সারাদেশে যখন শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, তখন সেই প্রতিবাদের ঢেউ পৌঁছে গেছে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার প্রত্যন্ত গ্রামেও। গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় আলমডাঙ্গা উপজেলার পারকুলা আনন্দবাজার এলাকায় ব্যতিক্রমধর্মী মানববন্ধনের আয়োজন করে স্কলার মডেল স্কুল ও হানেমা ফাউন্ডেশন। এতে অংশ নেয় বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনের পুরো এলাকা যেন পরিণত হয়েছিল শিশু অধিকার ও নিরাপত্তার দাবিতে এক প্রতিবাদী মঞ্চে। শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল “আমি নিরাপদ শৈশব চাই”, “আর কোনো রামিসা নয়, “ধর্ষকদের বিচার চাই”।
বক্তারা বলেন, একটি শিশু যখন নিজের ঘর ও আশপাশেও নিরাপদ নয়, তখন তা পুরো সমাজের জন্য ভয়াবহ সংকেত। তারা অভিযোগ করেন, বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ও অপরাধীদের দ্রুত শাস্তি কার্যকর না হওয়ায় ধর্ষণ ও হত্যার মতো অপরাধ বাড়ছে।
স্কলার মডেল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আতিকুর রহমান শাহাবুল বলেন, আজ আমাদের শিক্ষার্থীরাই রাস্তায় নেমেছে। কারণ তারা ভয় পেতে শুরু করেছে। একটি শিশু যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে সমাজের ভবিষ্যৎও নিরাপদ নয়।
মানববন্ধনে বক্তারা রামিসা হত্যা মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিয়ে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান। একইসঙ্গে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তারা। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থীও তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে। কেউ বলেছে, রামিসার মতো যেন আর কোনো আপুর এমন না হয়, আবার কেউ বলেছে, আমরা নিরাপদে স্কুলে যেতে চাই।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের মানববন্ধন শুধু প্রতিবাদ নয়, বরং সমাজকে সচেতন ও জাগ্রত করারও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। শিশুদের নিরাপত্তা ও মানবিক মূল্যবোধ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তারা। দিনশেষে ছোট ছোট শিশুদের কণ্ঠে উচ্চারিত একটি বাক্যই যেন সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়— “রামিসার বিচার না হওয়া পর্যন্ত প্রতিবাদ চলবেই।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।