ফিলিং স্টেশনে ভোগান্তি চরমে জ্বালানি তেল নিতে জরুরি সেবার লাইনে সাধারণ মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গায় জ্বালানি তেল কিনতে জনগণের ভোগান্তি যেন কমছেই না। পাম্পে তেল নিতে ভোগান্তি এড়াতে সাধারণ মানুষ নতুন কৌশল বেছে নিচ্ছেন। বেশিরভাগ মানুষ আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীর সহযোগীতায় জরুরী সেবার লাইনে দাড়িয়ে পড়ছেন তেল সংগ্রহ করতে। এতে সত্যিকার অর্থে যারা জরুরী সেবার মানুষ তারা পড়ছেন চরম বেকাদায়।  
কিছুদিন পূর্বেই জেলা প্রশাসন এর নির্দেশে পাম্পে জরুরি সেবার একটি আলাদা লাইন করা হয়। যার আওতাভুক্ত হবেন অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, সাংবাদিক ও চিকিৎসক। তবে বর্তমানে পাম্পে গিয়ে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। সাধারণ মানুষেরা নিজেদের লাইনে না দাঁড়িয়ে জরুরি সেবার লাইনে দাঁড়িয়ে দ্রুত তেল নেওয়ার অপচেষ্টা করছেন। এতে করে পাম্পে নানামুখী বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে। এ সকল বিশৃঙ্খলা এড়াতে পাম্পে নিয়োগ করা হয়েছে ট্যাগ অফিসার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কিন্তু পাম্পের তেল নিতে এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় নানাবিধ প্রশ্নের মুখে পড়ছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
জেলার বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে প্রায় প্রতিটি পাম্পে দুটি করে লাইন। একটি লাইন সাধারণ জনগণের জন্য এবং অপরটি জরুরি সেবার। কিন্তু বর্তমানে সাধারণ মানুষের লাইনের মতই জরুরি সেবার লাইনটিও কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ হচ্ছে। অনেক সাধারণ মানুষ নিজেরা দ্রুত তেল নিতে ঢুকে পড়ছে জরুরি সেবার লাইনে।
পাম্পে তেল নিতে আসা মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা সাধারণ মানুষেরা দাঁড়িয়ে আছি এটি সাধারণ মানুষেরই লাইন। কিন্তু অপরদিকে যে লাইনটি আছে সেটা জরুরী সেবার লাইন। আমাদের মধ্যে থেকে অনেক মানুষ এই জরুরী সেবা লাইনে গিয়ে দাঁড়িয়ে দ্রুত তেল নিয়ে চলে যাচ্ছে কিন্তু আমরা ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকছি। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের ভোগান্তি আরো বাড়বে। জ্বালানি তেলের এই অভাবের প্রভাব সরাসরি পড়েছে জনজীবনে। তেলের সংকটে ব্যক্তিগত বাইকের ব্যবহার কমে যাওয়ায় অটো-রিকশা এবং ইজিবাইকের ওপর চাপ কয়েক গুণ বেড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষকে যাতায়াতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যে তদারকি শুরু করেছে। সম্প্রতি জেলায় চালু হওয়া ফুয়েল কার্ড সিস্টেমের মাধ্যমে তেল বিতরণ প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খল করার চেষ্টা চলছে। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় কার্ড থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ডিপো থেকে তেলের লরি সময়মতো না পৌঁছানোর কারণে এই সংকট ঘনীভূত হয়েছে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে জনজীবন আরও স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।