চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াতের ৩৮ ও ঝিনাইদহে ৩০ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার


আজকের চুয়াডাঙ্গা ➤ নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৯, ২০২৩, ১১:২১ অপরাহ্ণ
চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াতের ৩৮ ও ঝিনাইদহে ৩০ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার
আলমডাঙ্গায় গ্রেপ্তারকৃত নেতা-কর্মীরা

নাশকতার অভিযোগে চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াতের ৩৮ ও ঝিনাইদহে ৩০ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাত থেকে রোববার (২৯ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত জেলার পাঁচ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে বোমা সদৃশ বস্তু, বাঁশের লাঠি ও লোহার রড উদ্ধার করা হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর:
নাশকতা পরিকল্পনার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার বিভিন্ন স্থান থেকে বিএনপির ৯ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শনিবার দিবাগত রাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার (২৯ অক্টোবর) তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে সোপর্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- চুয়াডাঙ্গা শহরের আরামপাড়ার মাছপট্টি এলাকার এম এ হান্নানের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মাহবুব (৩৫), সদর উপজেলার আলুকদিয়া চকপাড়ার মুনতাজ মন্ডলের চেলে সাইফুল ইসলাম (৩৬) ও কাতুব উদ্দিনের ছেলে আল বিল্লাল (৩৪), সদর উপজেলার দশমি টাওয়ার পাড়ার মুধী শেখের ছেলে হাবিল উদ্দিন (৪২), সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের সিন্দুরিয়া গ্রামের মঙ্গল মালিথার ছেলে আশরাফুল ইসলাম ডালিম (৪৩), কুতুবপুর গ্রামের ওমর আলীর ছেলে ইমদাদুল হক ওরফে মজনু (৪৪), চুয়াডাঙ্গা শহরতলীর দৌলাতদিয়াড় দক্ষিণ পাড়ার এম জেনারেল ইসলামের ছেলে আকাশ (৩২), চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ভিমরুল্লা গ্রামের কামাল উদ্দিনের ছেলে রবিউল ইসলাম রাজন (৩৫) এবং হাটকালুগঞ্জ গ্রামের জামাত আলীর ছেলে জাহিদুল ইসলাম সোহেল (৪২)।

চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, জেলায় আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী, নাশকতা পরিকল্পনাকারী, বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে জনগণের জানমালের ক্ষতি সাধন করায় নাশকতার অভিযোগে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহামুদ হাসান খান বাবু ও সদস্যসচিব শরীফুজ্জামান শরীফ এক যৌথ বিবৃতিতে ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশে পুলিশি হামলা ও দলীয় নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে জনগণের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলা ও গ্রেপ্তার বন্ধের দাবি জানান।

আলমডাঙ্গা:
আলমডাঙ্গায় নাশকতা সৃষ্টির প্রস্তুতিকালে বিএনপি-জামায়াতের ১৩ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২৯ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের আসাননগর গ্রামস্থ আল আমিন সোসাইটি ক্যাডেট মাদ্রাসার ফাঁকা মাঠের মধ্যে থেকে বিএনপি-জামায়াতের ১৩ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার জেহালা বাজার পাড়ার মোকসেদ আলীর ছেলে আমিনুল হক (৫০), কালিদাসপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর খালপাড়ার মৃত আওলাদ আলীর ছেলে রবজেল আলী (৬০), একই গ্রামের মৃত হায়দার আলীর ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (৫০), আলমডাঙ্গা শহরের বাবুপাড়ার মৃত কিয়ামুদ্দিনের ছেলে তোফাজ্জল (৫৮), বাড়াদী ইউনিয়নের নতিডাঙ্গা গ্রামের মৃত মোশারফ হোসেনের ছেলে মামুন হোসেন (৩৩), চিৎলা ইউনিয়নের মোবারক মালিথার ছেলে নজরুল ইসলাম ঠান্ডু (৫৫), খাসকররা ইউনিয়নের এলাহি বক্সের ছেলে হারুন অর রশিদ (৩৫), একই ইউনিয়নের নগর গ্রামের ওমর আলী ছেলে নজরুল ইসলাম (৫০), তালুককররা গ্রামের আকবর আলী ছেলে আব্বাস আলী (৩৫), আইলহাঁস ইউনিয়নে হাকিমপুর গ্রামের আইজুদ্দিনের ছেলে ফারুক আহম্মেদ (৫৫), হারদী ইউনিয়নের হারদী গ্রামের কলিমুদ্দিন শেখের ছেলে আ. সাত্তার (৫৬), নাগদাহ ইউনিয়নের শিশিরদাড়ি গগ্রমের বাবর আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম (৫০) ও জামজামি ইউনিয়নের ভোদুয়া গ্রামের সোহরাব শাহ’র ছেলে আলম শাহ (৫৫)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের আসাননগর গ্রামস্থ আল আমিন সোসাইটি ক্যাডেট মাদ্রাসার ফাঁকা মাঠের মধ্যে বিএনপি এবং জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ঘোষিত ২৯ শে অক্টোবর সকাল-সন্ধ্যা হরতাল উপলক্ষে আলমডাঙ্গা থানা এলাকায় পিকেটিং ও নাশকতামূলক কার্যকলাপ সংঘটিত করার প্রস্তুতিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপ্লব কুমার নাথ বলেন, জামায়াত-বিএনপির দেওয়া হরতালে শহরের বিভিন্ন স্থানে নাশকতা সৃষ্টি ও আইন বহির্ভূত কর্মকাণ্ড সংগঠিত করার লক্ষ্যে জামায়াত-বিএনপি নেতা-কর্মীরা অবৈধ অস্ত্র-সস্ত্রসহ একত্রিত হয়েছে, এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় নাশকতা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

দর্শনায় বিএনপির পাঁচ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার

দর্শনা:
দর্শনা থানা এলাকায় পুলিশের অভিযানে বিএনপির পাঁচ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শনিবার দিবাগত রাতে দর্শনা পৌর এলাকার রামনগর ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, শনিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দর্শনা থানা পুলিশ জানতে পারে পৌর এলাকার রামনগর গ্রামের ফুটবল খেলা মাঠ সংলগ্ন স্থানে নাশকতার উদ্দেশ্যে বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী একত্রিত হয়েছে। তৎক্ষণাৎ দর্শনা থানা পুলিশ উক্ত স্থানে নাশকতা বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ৫ জন বিএনপি নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- পারকৃষ্ণপুর মদনা ইউনিয়ন বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক নাস্তিপুর গ্রামের মৃত কাতু মাস্টারের ছেলে ইউপি সদস্য আশিক ইকবাল চঞ্চল (৫১), নেহালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কৃষ্ণপুর গ্রামের (বোয়ালমারি পাড়ার) মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে ফরজ আলী (৪৮), একই গ্রামের ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বারেক আলীর ছেলে খোরশেদ আলী (৩৫), দর্শনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সাধারণ সম্পাদক দক্ষিণ চাঁদপুর গ্রামের সোনাই মন্ডলের ছেলে মণ্টু মন্ডল (৪৫), দর্শনা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রামনগর গ্রামের সিরাজ কশাইয়ের ছেলে আব্বাস আলী (২২)।

এসময় গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের কাছ থেকে ছোট-বড় ৭টি বোমা সদৃশ বস্তু, ৯টি বাঁশের লাঠি, ৪টি লোহার রড উদ্ধার করা হয়। পরে গতকালই দুপুরে তাদের বিরুদ্ধে দর্শনা থানায় একটি নাশকতা মামলা দায়ের করে চুয়াডাঙ্গা জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

জীবননগরে বিএনপি-জামায়াতের ৯ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার

জীবননগর:
জীবননগর থানা-পুলিশ নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে বিএনপির ৯ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। গত শনিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের বাঁকা স্কুলপাড়ায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার (২৯ অক্টোবর) বেলা একটার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম জাবীদ হাসান।

গ্রেপ্তার বিএনপির নেতা-কর্মীরা হলেন- জীবননগর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহজাহান আলী মিয়া (৪৬), জীবননগর পৌর কৃষক দলের সভাপতি মোহাম্মদ ইউনুছ আলী (৫৫), চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সদস্য মো. আবুল হোসেন (৫৮), বাঁকা ইউনিয়নের বাসিন্দা ও বিএনপি কর্মী আমিনুল ইসলাম (২৬), মিলন হোসেন (৪৩), শাহিন উদ্দিন (৩৬), বিএনপি সমর্থক ও উপজেলার গোপালনগরের বাসিন্দা মো. ইসরাফিল (২৫), ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলা বাসিন্দা ও বিএনপি সমর্থক মো. আমজাদ হোসেন (৫৮) ও মো. সুজাউদ্দিন (৪৯)।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ গোপন সূত্রে সংবাদ পায়, উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের বাঁকা স্কুলপাড়ার বিশারত মুহুরির বাড়ির পাশের আমবাগানে নাশতার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। এমন তথ্যের ভিত্তিতে থানা-পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। এসময় বিএনপির ৯ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। জব্দ করা হয় চারটি অবিস্ফোরিত বোমা সদৃশ বস্তু ও দুটি বিস্ফোরিত ককটেলের অংশ বিশেষ উদ্ধার করা হয়।

জীবননগর থানার ওসি এস এম জাবীদ হাসান বলেন, বাঁকা থেকে নাশতার পরিকল্পনার অভিযোগে বিএনপির ৯ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে নাশতার পরিকল্পনার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। পরে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহের ৬ উপজেলায় পুলিশ অভিযানে বিএনপি-জামায়াতের অন্তত ৩০ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন। পুলিশের ভাষ্য, নাশকতার অভিযোগে ২৫ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সারা জেলায় পুলিশের এই অভিযান চলমান রয়েছে। এদিকে, বিএনপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেপ্তারকৃতদের তালিকা প্রদান করা হয়েছে।

এদের মধ্যে রয়েছেন- হলিধানী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইব্রাহীম ব্যাপারী, মহারাজপুর ইউনিয়নের মো. আক্তারুজ্জামান, মো. শিপন মিয়া, মো. হায়দার আলী, শৈলকুপা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু জাহিদ চৌধুরী, একই উপজেলার যুবদল নেতা লতিফ রাজু, হরিণাকুণ্ডুর জোড়াদহ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের আরিফুল, জোড়াদহ গ্রামের ইয়ামিন, বাকচুয়া গ্রামের বকুল হোসেন, ফুরসন্দি ইউনিয়নের মিয়াকুড় গ্রামের জাহিদুর রহমান বিশ্বাস, নলডাঙ্গা ইউনিয়নের টিপু মিয়া, মহেশপুরের গোলাম মোস্তফা, শামীম সরোয়ার ভোটার, বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের আব্দুল মোতালেব, পান্তাপাড়ার সুজাউদ্দিন কালু, আমজাদ হোসেন, কালীগঞ্জের রায় গ্রামের শরিফুল, রাখালগাছি ইউনিয়নের হায়দার আলী, ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের আমিনুর রহমান লাটু মন্ডল ও নিয়ামতপুর ইউনিয়নের মিজানুর রহমান। জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ জানান, প্রতিনিয়ত গ্রেপ্তারের খবর আসছে। ফলে গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

আজকের চুয়াডাঙ্গা এর সংবাদ সবার আগে পেতে Follow Or Like করুন আজকের চুয়াডাঙ্গা এর ফেইসবুক পেজ এ , আজকের চুয়াডাঙ্গা এর টুইটার এবং সাবস্ক্রাইব করুন আজকের চুয়াডাঙ্গা ইউটিউব চ্যানেলে