মোবাইল কেড়ে নেওয়ায় ছেলের ছুরিকাঘাতে বাবা নিহত ॥ ঘাতক ছেলে রিফাত আটক

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাবার চেয়ে মোবাইল-ই-আপন, নামাজরত অবস্থায় বাবাকে উপর্যপুরি ছুরিকাঘাত করে সেটাই নিশ্চিত করলো চুয়াডাঙ্গার রিফাত নামের এক পাষন্ড সন্তান। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গা শহরের পলাশ পাড়ায়। ছেলের মোবাইল কেড়ে নেওয়ায় নামাজরত বাবাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা ওই কুলাঙ্গার সন্তান রিফাত (১৭)। নিহত দোদুল হোসেন রিন্টু (৫০) চুয়াডাঙ্গা পলাশ পাড়ার বাসিন্দা কাজী আফাজ উদ্দিনের ছেলে।

পরিবারের সদস্যরা জানান,
শনিবার (২২ মার্চ) ইফতারি শেষে মাগরিবের নামাজের আগে ছেলের বেপরোয়া মোবাইল চালনা দেখে মোবাইলটি কেড়ে নেন বাবা দোদুল হোসেন রিন্টু। এতে ক্ষিপ্ত হয় চুয়াডাঙ্গা কামিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছেলে রিফাত। এরপর বাবা নামাজে দাঁড়ালে ছেলে রিফাত বাবার পিঠে ও শরীরের বিভিন্নস্থানে উপর্যপুরী ছুরিকাঘাত করে । পরিবারের সদস্যরা দ্রুত দোদুল হোসেনকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত ছেলে রিফাতকে গ্রেফতার করে থানা হেফাজতে নিয়েছে।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, রিফাত মোবাইলে গেমে আসক্ত। মাগরিবের আগে বাবা দোদুল হোসেন মোবাইল কেড়ে নেন। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ছেলে রিফাত মোবাইলে আসক্ত ছিল। বাবা দোদুল হোসেন মোবাইল কেড়ে নিয়ে নামাজে দাঁড়ালে পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করে। হাসপাতালে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ছেলেকে আটক করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মরদেহ সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা কামিল
মাদ্রাসার শারীরিক শিক্ষার সহকারী শিক্ষক রকিবুল ইসলাম(ইসলাম রকিব) বলেন, যে সন্তান তার পিতাকে হত্যা করতে পারে, তার লেখাপড়া ও মানুষ হবার মানসিকতা নেই, সেটি আর বলার অপেক্ষা রাখে না । তাই সকল শিক্ষকের সম্মতিতে এ শিক্ষার্থীকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা উচিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *