সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে ইসির ২ বৈঠক আগামী সপ্তাহে


আজকের চুয়াডাঙ্গা ডেস্ক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২২, ২০২৩, ১০:৪১ অপরাহ্ণ
সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে ইসির ২ বৈঠক আগামী সপ্তাহে

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফল করতে আটঘাট বেঁধে নামছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ৩০ অক্টোবর ও ১ নভেম্বর সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে কমিশন। এসব বৈঠকে থাকবে নির্বাচন সফল করার উপায় নিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের ‘সিরিয়াস’ আলোচনা।

নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, নভেম্বরের প্রথমার্ধে তফশিল ঘোষণার লক্ষ্য নিয়ে আগামী ১ নভেম্বর গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈঠক করবে ইসি। এতে পররাষ্ট্র, তথ্য, শিক্ষা ও প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। বৈঠকে নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে ‘চূড়ান্ত’ আলোচনা হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সভাপতিত্বে নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে বেলা ১১টায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।

অন্যদিকে, সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় করণীয় ঠিক করতে আগামী ৩০ অক্টোবর আরেকটি বৈঠক করবে ইসি। বৈঠকে সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পুলিশের আইজি, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, কোস্টগার্ড, এনএসআই ও ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক, এসবির অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত চিঠি সংশ্লিষ্টদের পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

১ নভেম্বর যাদের সঙ্গে বৈঠক করবে ইসি

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর নির্বাহী পরিচালক বা উপযুক্ত কর্মকর্তা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিনিধি ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের (সমন্বয় ও সংস্কার) সচিবকে চিঠি দিয়েছে ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখা।

চিঠিতে বলা হয়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে আয়োজনের নিমিত্তে করণীয় নির্ধারণ ও সমন্বয় সহজীকরণের লক্ষ্যে আগামী ১ নভেম্বর বেলা ১১টায় নির্বাচন ভবনে এক সভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় সভায় নির্বাচন কমিশনাররা উপস্থিত থাকবেন। সভায় যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন।

সভায় যেসব বিষয়ে আলোচনা হবে

(ক) ভোটকেন্দ্রের স্থাপনা মেরামত ও ভৌত অবকাঠামো সংস্কার; (খ) পার্বত্য/দুর্গম এলাকায় হেলিকপ্টারে নির্বাচনী মালামাল পরিবহন এবং ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের ভোটকেন্দ্রে আনা-নেওয়ার বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ; (গ) নির্বাচনী প্রচার, উদ্বুদ্ধকরণ ইত্যাদি বিষয়ে প্রচার মাধ্যম কর্তৃক ব্যবস্থা গ্রহণ; (ঘ) দেশি/বিদেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগে সহায়তা প্রদান; (ঙ) পোস্টাল ব্যালটে ভোটপ্রদানের বিষয়ে সহযোগিতা; (চ) নির্বাচনে শান্তিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ; (ছ) ঋণ খেলাপি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, সংকলন ও প্রদান বিষয়ক কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত; (জ) নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন এবং মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় শোডাউন নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ; (ঝ) বার্ষিক ও পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি পর্যালোচনা; (ঞ) দৈনন্দিন আবহাওয়ার পূর্বাভাস সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা; (ট) নির্বাচনী এলাকায় বিদ্যমান নির্বাচনী প্রচার সামগ্রি অপসারণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা প্রদান;

৩০ অক্টোবর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পাঠানো চিঠিতে ইসি জানায়, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবার উপস্থিতিতে আগামী ৩০ অক্টোবর বেলা ১১টায় নির্বাচন কমিশন ভবনের সভাকক্ষে (কক্ষ নং-৫২০) এক সভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে সভায় নির্বাচন কমিশনাররা উপস্থিত থাকবেন।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, সংসদ নির্বাচনের উপকরণ কেনা প্রায় শেষের পথে। বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু করেছে ইসি। সরকারি মুদ্রণালয়কে ব্যালট পেপারসহ অন্যান্য উপকরণ ছাপানোর নির্দেশনাও দিয়েছে ইসি। আগামী নভেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল ঘোষণা করা হবে। আর ডিসেম্বরের শেষ থেকে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ।

এ প্রসঙ্গে ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ ঢাকা পোস্টকে বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের ডেকেছি। বিশেষ করে আগামী নির্বাচনে সমন্বয়ের জন্যই তাদের ডাকা হয়েছে। প্রত্যেকবারেই আগে থেকে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সমন্বয়ের বিষয়টি জানানো হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের প্রতিধিদের ডাকা হয়েছে। তফশিল ঘোষণার পর থেকে ভোটের পরবর্তী সময় পর্যন্ত যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক থাকে, সেই বিষয়েই বার্তা দেওয়া হবে। মূলত আগামী নির্বাচন সফল করতেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হবে।

 

আজকের চুয়াডাঙ্গা এর সংবাদ সবার আগে পেতে Follow Or Like করুন আজকের চুয়াডাঙ্গা এর ফেইসবুক পেজ এ , আজকের চুয়াডাঙ্গা এর টুইটার এবং সাবস্ক্রাইব করুন আজকের চুয়াডাঙ্গা ইউটিউব চ্যানেলে