মেহেরপুর সদর হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের হামলা-ভাংচুর, নার্স-ওয়ার্ডবয় লাঞ্চিত


আজকের চুয়াডাঙ্গা➤ মেহেরপুর প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১১, ২০২৩, ৪:৪৯ অপরাহ্ণ
মেহেরপুর সদর হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের হামলা-ভাংচুর, নার্স-ওয়ার্ডবয় লাঞ্চিত

মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে কর্তব্যরত নার্স ও ওয়ার্ডবয়দের ওপর হামলা চালিয়েছে রোগীর স্বজনরা। এসময় তারা হাসপাতালের আসবাবপত্র ভাংচুর এবং নার্সদের লাঞ্চিত করে। সোমবার (১১ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে দশটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মেহেরপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিউর রহমানের আত্মীয় একই ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের আলী হোসেন (৭২) হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সোমবার সকালে ওয়ার্ড ভিজিটের সময় রোগীর স্বজনকে ওয়ার্ডের বাইরে অপেক্ষা করতে বললে, তিনি সংক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকজনকে ফোন দেন।

এসময় শ্যামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মতিউর রহমানের ছোট ভাইসহ অজ্ঞাত ৮-১০ জন এসে হাসপাতালের ওয়ার্ডবয়, নার্স ও ডাক্তারদের ওপর চড়াও হয়। এসময় ওয়ার্ড বয় হিমেল, ওয়ার্ড মাস্টার সেলিমসহ কয়েকজন আহত হয়।

হামলার ঘটনা জানতে পেরে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নেন এবং সংক্ষুব্ধদের তার কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে কথা বলার ফাঁকে বহিরাগত আরো কয়েকজন সেখান থেকে বের হয়ে পাশে হাসপাতালের হিসাবরক্ষকের রুমে ভাঙচুর চালায়।

এসময় সিনিয়র স্টাফ নার্স বিউটি খাতুনসহ কয়েকজন সেবিকা ও ওয়ার্ডবয় লাঞ্ছিত হয়।ঘটনার পর শ্যামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেন।

মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের আাবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ওবায়দুল্লাহ বলেন, ‘হাসপাতালে ওয়ার্ড ভিজিটের সময় এ ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা একটি নিয়মিত ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। এর বেশি আমি আর কিছু বলতে পারব না।’

শ্যামপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি বলেন, ‘ঘটনার কথা শুনে আমি হাসপাতালে গেছিলাম। হাসপাতাল সুপারের সাথে কথা হয়েছে। ছোট একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, সমঝোতার প্রক্রিয়া চলছে।’

মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জামির মো. হাসিবুর সাত্তার বলেন, ‘মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে এ ধরনের ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটছে। তবে একজন জনপ্রতিনিধি আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কাম্য নয়। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা আজকে যে তাণ্ডব চালিয়েছে, এতে হাসপাতলের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।’

তিনি আরও জানান, হাসপাতালের সকল স্টাফ কর্মবিরতিতে যেতে চাচ্ছে। আমরা হাসপাতালের সকল স্টাফ মিটিংয়ে বসে একটি সিদ্ধান্ত নেব। আগের ঘটনাগুলোতে পুলিশে অভিযোগ করে কোনো ফল পাওয়া যায়নি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবার আদালতে মামলা করব।’

মেহেরপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ গনি মিয়া বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো অভিযোগ করেনি। আমি বাইরে থেকে ঘটনা শুনে ওসি (তদন্ত)-কে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ‘

আজকের চুয়াডাঙ্গা এর সংবাদ সবার আগে পেতে Follow Or Like করুন আজকের চুয়াডাঙ্গা এর ফেইসবুক পেজ এ , আজকের চুয়াডাঙ্গা এর টুইটার এবং সাবস্ক্রাইব করুন আজকের চুয়াডাঙ্গা ইউটিউব চ্যানেলে