ঝিনাইদহে স্ত্রী ও সন্তান হত্যায় দায়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড


আজকের চুয়াডাঙ্গা➤ ঝিনাইদহ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৭, ২০২৩, ৩:৪৪ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে স্ত্রী ও সন্তান হত্যায় দায়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড

ঝিনাইদহে স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার ঘটনায় সুজন (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক আব্দুল মতিন এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত সুজন শৈলকুপা উপজেলার দোহা-নাগিরাট গ্রামের মো. বিশারত হোসেনের ছেলে।

রায় সূত্রে জানা যায়, শৈলকুপা উপজেলার নোন্দীরগাতী গ্রামের সালেহা বেগমের কন্যা ইয়াসমিনের বিয়ে হয় সুজনের সাথে। পরে তাদের ঘরে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। এরপর থেকেই সুজনের পরকীয়া নিয়ে স্ত্রীর সাথে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকতো। এ ঘটনার জের ধরে সুজন তার স্ত্রী ও সন্তানকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।

কিছুদিন পরে সুজন স্ত্রী ও সন্তানের সাথে বিবাদে জড়াবে না বলে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়। বাড়ি ফিরিয়ে আনার ১৫ দিন পর ২০১৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। সুজনের স্বজনদের কাছে ইয়াসমিনের পরিবার জানতে চাইলে তারা বলেন ওরা বেড়াতে গেছে।

কিছুদিন পর সুজনের বাড়িতে গিয়ে কাউকেই পাওয়া যায় না। পরে ঝিনাইদহ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে ওই বছরেরই ২২ মার্চ তাদের পাওয়া যাচ্ছে না মর্মে অভিযোগ দায়ের করে ইয়াসমিনের মা সালেহা বেগম। পরে আদালত সেটি এজাহার হিসেবে গণ্য করেন।

আদালতের নির্দেশে শৈলকুপা থানা পুলিশ জানতে পারে সুজন শেখ ফরিদপুর জেলার সদরপুর থানার মৈজদ্দি-মাতব্বরকান্দি গ্রামে আত্মগোপনে আছে। সেখানে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সুজন স্বীকার করে যে তার স্ত্রী ইয়াসমিনকে ফরিদপুর জেলার পদ্মানদীর তালুকের চরে শ্বাসরোধ করে এবং ছেলে ইয়াসিনকে গলা টিপে হত্যা করে বালিচাপা দিয়ে রেখেছে।

পরবর্তীতে পুলিশ ২০১৭ সালের পহেলা জানুয়ারি আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে বিজ্ঞ আদালত গতকাল সোমবার দুপুরে সুজনকে স্ত্রী ও সন্তান হত্যার দায়ে অভিযুক্ত করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।

আজকের চুয়াডাঙ্গা এর সংবাদ সবার আগে পেতে Follow Or Like করুন আজকের চুয়াডাঙ্গা এর ফেইসবুক পেজ এ , আজকের চুয়াডাঙ্গা এর টুইটার এবং সাবস্ক্রাইব করুন আজকের চুয়াডাঙ্গা ইউটিউব চ্যানেলে